ভোলায় এতিমখানার বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের সময় উচ্চমান সহকারী সুমন কে দিতে হয় চাহিদামত ঘুষ
ভোলায় এতিমখানার বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের সময় উচ্চমান সহকারী সুমন কে দিতে হয় চাহিদামত ঘুষ
আশিকুর রহমান শান্ত
ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
ভোলা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে বেসরকারি এতিমখানাগুলোর ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট (সরকারি অনুদান) এর বিল ভাউচারের বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের সময় উচ্চমান অফিস সহকারী সুমন কে দিতে হয় ঘুষ।
ভোলা জেলায় বর্তমানে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে মোট ৪০টি নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানার ১৬৪৩ জন নিবাসী এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২,০০০ টাকা হারে সরকারি অনুদান বরাদ্দ রয়েছে। এই টাকা উত্তোলনের সময় কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারী সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক এতিমখানা পরিচালকদের দাবি টাকা না দিলে ফাইলের ত্রুটি খোঁজা হয় এবং মাদ্রাসা পরিদর্শনের কথা বলে প্রতিষ্ঠানে এসে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করে। তাদের চাহিদা মত সেই ঘুষের টাকা না দিতে পারলে নির্ধারিত ক্যাপিটেশন এর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে মাদ্রাসায় থাকা এতিম শিশুদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ৪০টি বেসরকারি এতিমখানায় সরকারি বরাদ্দ আসে। সরকারি নিয়মানুযায়ী এই অর্থ সরাসরি এতিমখানার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা থাকলেও বিল পাসের মূল ফাইলটি প্রস্তুত করেন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মূলত এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই উচ্চমান সহকারীর মাধ্যমে জেলা উপ-পরিচালক ও উপজেলা অফিসার এই ঘুষ বাণিজ্যের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ভোলার স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের এক দাতা সদস্য প্রতিষ্ঠান ও তার নাম গোপন রাখা শর্তে এই প্রতিবেদককে আরো জানান, যদি জেলা সমাজসেবা অফিস বিল প্রতি কত টাকা খরচ তা নির্ধারণ করে দিত তাহলে ভালো হতো। কেন খরচ দিতে হবে বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উচ্চমান সহকারী সুমন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার এবং অফিসের বিভিন্ন ধরনের খরচের কথা বলে এ বছর বিলের সময় আমার কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। যদি বিষয়টি নির্ধারিত থাকতো তাহলে হয়তো এত টাকা দেওয়া লাগত না।
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের হন্নি গ্রামের আলহাজ্ব ছলেমান নেছা এতিমখানা এক শিক্ষক বলেন, জেলা সমাজসেবা অফিসের উচ্চমান সহকারী সুমন একাউন্টস ও অফিসের বিভিন্ন খরচের কথা বলে এ বছরও তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সরকারি টাকা তুলতে কেন টাকার প্রয়োজন হবে জানতে চাইলে শিক্ষক বলেন আমরা অসহায় ভুক্তভোগী আমাদের কিছু করার নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জানান, সুমন আমার কাছ থেকে চায়ের খরচের জন্য বিল উত্তোলনের সময় ১ হাজার টাকা নিয়েছে।
ভোলার সচেতন মহল মনে করেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০২৪ কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়মিত নজরদারি বাড়ালেই কেবল এতিম শিশুদের এই হকের টাকা শতভাগ সুরক্ষিত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উচ্চমান সহকারী সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর কাছে অভিযোগ এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোলা সদর উপজেলার সকল মাদ্রাসার বিলগুলো আমি পাস করি। আমি আপনাদের ভিডিওগুলো দেখেছি, তো এ বিষয়টি আমরা আরো একটু খোঁজখবর নেই। কেন টাকা নেওয়া হচ্ছে টাকা গুলো কোথায় লাগে সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে আপনাদেরকে জানাতে পারবো।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভোলা জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার এর অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স